শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

বাংলাদেশে দুর্নীতির হার কমেছে, বেড়েছে ঘুষের অংক



দুর্নীতি বিষয়ক গবেষক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপ্যারেন্সি ইনটারন্যাশনাল বাংলাদেশ বলছে, দেশের বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির হার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে।
তবে টিআইবি এও বলছে, যেখানে দুর্নীতি হচ্ছে সেখানে অর্থের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় ৭,০০০ মানুষের উপর চালানো জরিপে দেখা গেছে ৬৩.৭ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির শিকার হয়েছেন।এই তথ্য এসেছে টিআইবির ‘জাতীয় খানা জরিপ ২০১২’ তে।
তবে ২০১০ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ কম।
টিআইবির প্রধান নির্বাহী ইফতেখারুজ্জামান বিবিসিকে বলেছেন, সরকারি বা বেসরকারি খাতে সেবা গ্রহণ করার সময় দুর্নীতির হার কমেছে, কিন্তু ঘুষের অংক বেড়েছে।
দুর্নীতিতে ঝুঁকি বৃদ্ধি বা অন্য কোন কারণে একটি ‘প্রিমিয়াম’ যোগ করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তাদের হিসাব অনুযায়ী ২০১২ সালে ঘুষের লেন-দেনের পরিমাণ ছিলো মোট জাতীয় আয়ের ২.৪ শতাংশ, যা ২০১০ সালের প্রায় দ্বিগুণ।
কোন কারণে দুর্নীতির অগ্রহণযোগ্যতাটা যদিও বেড়েছে, বিভিন্ন সেবা খাতে দুর্নীতির মাত্রা এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে আছে।
‘’দৈনন্দিন জীবনে যেসব খাত গুরুত্বপূর্ণ, যেমন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার ব্যবস্থা, ভূমি প্রশাসন ইত্যাদি খাতে দুর্নীতির মাত্রা উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে’’, ইফতেখারুজ্জামান বলেন।
তিনি বলেন ২০১২ সালের জরিপে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্থ খাত হিসেবে উঠে এসেছে শ্রম এবং অভিবাসন খাত।
তবে জরিপের তথ্য অনুযায়ী, শ্রম এবং অভিবাসন খাতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের বেশির ভাগই প্রতারিত হয়েছেন নিজেদেরই আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব বা প্রতিবেশী দ্বারা।
অন্যদিকে, সার্বিকভাবে দুর্নীতির হার কমলেও, স্বাস্থ্য, বিআরটিএ-র মত জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে দুর্নীতি বেড়েছে বলে জরিপে দেখা গেছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন